Go Green
lets-go-green

”পৃথিবীকে  সবুজ রাখা” এই ভাবনাটিই প্রকাশ করে এই দুটি শব্দ “Go Green”.

নিম্নে উল্লেখিত পদক্ষেপ দ্বারা “Go Green” এর কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

Think Green:

think-green

প্রাকৃতিক সম্পদ অফুরন্ত নয় তাই প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারে প্রয়োজন সচেতনতা। Think green মানে হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে সর্তক হওয়া এবং পরিবেশকে সবুজ রাখার চিন্তা করা।

এই সচেতনতা প্রসঙ্গেই “Go Green” এ আনা হয়েছে 3 R’s Concept.

1. Reduce বা হ্রাস করা

১. কমাতে হবে খরচ: যে কোন জিনিস কেনা বা ব্যবহার করার আগে বারবার ভেবে দেখতে হবে যে আসলেই তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরিবেশের সম্পদ রক্ষার্থে নিজেদের ব্যবহার আগে কমাতে হবে।

২. কমাতে হবে অপচয়: কিভাবে অপচয় কমানো যায়, তা হয়ত বলে শেষ করা যাবে না । নিম্নে কিছু পন্থা উল্লেখ করা হলো:

>> কোন কিছু কাগজে প্রিন্টঅথবা ফটোকপিএর আগে ভেবে দেখতে হবে যে আসলেই কাগজটি নষ্ট করা প্রয়োজন কিনা।
>> যে কোন জুরুরী তথ্য পুনরায় ঠিক করা লাগলে তা কম্পিউটাওে করুন, কাগজে নয়।
>> চিঠি লেখার অথাৎ কাগজে লিখে কিছু পাঠানোর বদলে ই-মেইল করুন।
>> জরুরী তথ্য মোবাইল, কম্পিউটার বা সিডি বা পেনড্রাইভ এর সংরক্ষণ করুন, কাগজে নয়।
>> একান্ত প্রয়োজনে প্রিন্ট করা লাগলে কাগজের উভয়পিঠ-ই ব্যবহার করুন।

৩. কমাতে হবে শক্তির অপচয়ঃ
শক্তির অপচয় কমানোর কিছু পন্থা নিচে উল্লেখ করা হলো:
>> প্রয়োজন না থাকলে লাইট এবং ফ্যান এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী বন্ধ রাখুন।
>> দিনের বেলা সূর্য্যের প্রাকৃতিক আলোয় কাজ করার চেষ্টা করুন।
>> কাপড় ধুতে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন।
>> এসি বা হিটার ছাড়া থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।
>> বৈদ্যুতিক বাতিঅথবা কোন বৈদ্যুতিক সামগ্রীকেনার সময় অবশ্যই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্যই কেনা উচিত।

২. Reuse বা পুন:ব্যবহার
যে কোন কিছুকেই পুন:ব্যবহার করা যায় কিন্তু প্রয়োজন ইচ্ছা এবং চিন্তাশক্তি। যেমনঃ
>> চিঠির খামের উপর পুরাতন ঠিকানার জায়গায় নতুন ঠিকানা লাগিয়ে আবার ব্যবহার করা যায়।
>> অব্যবহার্য বা অপ্রয়োজনীয় কাগজকে একটি জায়গায় জমিয়ে রাখুন এবং পরর্তীতে কোন কিছু প্রিন্ট এর সময় ব্যবহার করুন।
>> প্লাস্টিক এর ব্যাগ ব্যবহার করুন, কারণ তা বারবার ব্যবহার উপযোগী।

৩. Recycle বা রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার্য জিনিসকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা:

কোন কিছু কেনার আগে দেখে নিন ব্যবহারের পরে তা দিয়ে আর কোন কাজ করা যাবে কিনা।

>> উপহার দেওয়ার সময়সুদৃশ্য মোড়কে না পেঁচিয়ে গিফট ব্যাগে দিন। সুদৃশ্য মোড়কএকবার ছিঁড়ে ফেললেই শেষ কিন্তু ব্যাগ বারবার ব্যবহার করা যায়।
>> প্রতি টন . Recycle পেপার ১৭ টি গাছ বাঁচায়।

 

Act Green:

শুধু ভাবলেই হবে না, “Go Green” এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু কাজও করতে হবে। সমস্যা অনেক বড় কিন্তু একজনের এগিয়ে আসাও বড় ধরনের সাফল্য নিয়ে আসতে পারে।

১. “Go Green” এর উপকারিতা সম্পর্কে অন্তত একজনকে অবগত করা : আপনার বন্ধু, আত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশী, সহকর্মীদের মধ্যে অন্তত একজনকে এর উপকারিতা সম্পর্কে জানান এবং তাকে অনুরোধ করুন তার পরিচিত কাউকে জানাতে।

২. অংশগ্রহণ করুন “Go Green Ambassadors Program”:“Go Green Ambassadors Program” এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে তাদেও বার্তা পৌঁছানো। তারা চায় মানুষকে এই প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহাওে সর্তক করতে এবং “Go Green” এর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে।

৩. ছড়িয়ে দিন আপনার “Green Success Story”:আপনার কোন একটি পদক্ষেপ, যাতে “Go Green” এর উদ্দেশ্য লক্ষিত হয়, তা লিখে ছড়িয়ে দিন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হতে পারে, আপনার ছোট গল্পটি-ই আরেকজনকে উৎসাহের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

৪. “Go Green” এর উপর বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে, যাতে গিয়ে আপনি এর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

Eat Green:

eat-green

আমাদের নিত্যদিনের খাওয়া-দাওয়াও পরিবেশের উপর যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখে।

> >খাদ্য তালিকায় ফলমূল, শাক-সবজী, শস্য জাতীয় খাবার ইত্যাদি খাদ্য রাখা উচিত, এগুলো স্বাস্থকর এবং প্রকৃতিতে সহজলভ্য।
>> এলাকার ভিতর খাওয়া দাওয়া করা উচিত। দূরে গেলে যানবাহন খরচ বেড়ে যায় এবং জ্বালানীরওঅপচয় হয়।
>> ঠিক ততটুকু খান যতটুকু আপনার প্রয়োজন, তার অধিক নয়।
>> একবার ব্যবহার করা যায় এমন প্লেট, গ্লাস, চামচ ব্যবহার না করে বারবার ব্যবহারপোযোগী প্লেট, গ্লাস, চামচ ব্যবহার করা উচিত।
>> অনেক বেশি প্যাকেট দিয়ে মোড়াতে হয়ে, এমন খাদ্যদ্রব্য পার্সেলনা নেওয়াই ভালো।

Shop Green:

shop-green
খাওয়া-দাওয়ার পরই পরিবেশের উপর দ্বিতীয় সর্ব্বোচ প্রভাব হচ্ছে কেনাকাটা।

>> নতুন যন্ত্রপাতি কেনার আগে প্রয়োজন সচেতনতা, আসলেই সেই যন্ত্রপাতি বা জিনিসটি অতি প্রয়োজনীয় কিনা, তা ভাবতে হবে কেনার আগে।
>> কেনার সময় বুঝতে হবে যে সেই জিনিসটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে কিনা, অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন জিনিস কেনা উচিত নয়।
>> প্রত্যেক নতুন যন্ত্রপাতির নিচে ঝঃধৎ দিয়ে তার শক্তি বা কর্মদক্ষতা বোঝানো হয়ে থাকে, যেটাতে বেশি ঝঃধৎ থাকবে বুঝতে হবে তার কর্মদক্ষতা বেশি তাই কেনার সময় ঝঃধৎ দেখে বুঝে শুনে কিনতে হবে।
>> কেনার সময় পরিবেশ-বান্ধব পণ্যই কিনতে হবে।

 

Build Green:

 

build-green
Build Green এর মানে হচ্ছে একটি বিল্ডিং এর অভ্যন্তরীণ অংশকে স্বাস্থ্যকর বা পরিবেশ বান্ধব করে তোলা।

>> বিল্ডিং মানেই হচ্ছে একটি ধ্বংসাত্মক কাজ। বাড়ি তৈরীর সময় যথাসম্ভব পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হবে।
>> একটি বিল্ডিং তৈরী করেই কাজ শেষ হয় না। এরপর সেখানে লোকজন থাকা শুরু কওে এবং তাদের বাঁচার তাগিদে প্রয়োজন কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন বাতাস, পানি, বিদ্যূৎ ইত্যাদি। এৎববহ নঁরষফরহম মানে হচ্ছে সেইসব সুবিধা সমৃদ্ধ বাড়ি যা একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবেশ বান্ধব।
>> একটি বাড়ি বানাতে গেলে শুধু আশেপাশের মানুষ ই নয়, বরং প্রাকৃতিক পরিবেশও ব্যপকভাবে ব্যাহত হয় তাই বাড়ি বানানোর সময় মাথায় রাখা উচিত যেন তা সর্বাপেক্ষা বেশি দিন টিকে থাকে।
>> এৎববহ নঁরষফরহম এর আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে বাড়ি তৈরীর সময় বিষাক্ত কোন উপাদান ব্যবহার না করা যাতে এরপরে ওই বাড়িতে বসবাসরত কোন ব্যাক্তি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
Read Green:

read-green
কিভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, কিভাবে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায়, “Go Green” এর প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন বই আছে যা পড়ে “Go Green” এর দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

 

Green Product:

product-green

আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র এর তালিকা বেশ বড়। এই জিনিসগুলো যদি এমন কাঁচামাল দিয়ে তৈরী করা যায় যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয় তাহলে সেই জিনিসপত্র গুলোকেই আমরা Green Product বলতে পারি।

 

Green News:

news-green

“Cop-21” এর কিছু প্রবন্ধ আছে যেগুলো পরিবেশের উপর ভিত্তি করেই রচিত। এছাড়াও আরো কিছু প্রবন্ধ আছে যাতে পরিবেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এগুলোই Green News।

 

Green Images:

image-green

 

পরিবেশের উপর কিছু চিত্র দেখা যায় যা “Go Green” এর উপর ভিত্তি করেই গঠিত সেসব ছবিগুলোই Green Images হিসেবে পরিচিত। সাধারণত, এইসব চিত্রে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, পরিবেশের গুরুত্ব ইত্যাদি প্রকাশ পায়।

 

Green Technology:

অদুর ভবিষ্যতে কিছু অকল্পনীয় প্রযুক্তি আবিস্কার হতে চলেছে যা মানুষের জীবনধারা এবং কাজ-কর্মের ধারকেই বদলে দেবে।

>> খুব দ্রুতই এমন লাইট/বাল্ব আবিস্কার হতে চলেছে যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
>> প্রাকৃতিক আলোকেই পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসা হবে মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য।
>> ইজ্ঞিনচালিত গাড়ির বদলে আসছে বিদ্যুৎবাহী গাড়ী।
>> বিভিন্ন ব্যবহৃত দ্রব্যাদিকে পুনরায় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মাধ্যমে কম্পিউটার আবিস্কার করা সম্ভব হবে অতিশীঘ্রই।
>> বায়ু শক্তি বর্তমানে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রথম পছন্দ, কারণ এটিই সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস।
>> সোলার প্যানেল ব্যবহারও বিদ্যুৎখাতে এনে দিতে পারে অকল্পনীয় পরিবর্তন।

 

Green Events:

আগামী ১৮ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে “World Future Energy Summit” আয়োজন করেছে “Green Event”, যার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ভবিষ্যতের বিভিন্ন শক্তি সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা, সেসব শক্তির সঠিক প্রয়োগ  সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং “Green Technologies” |

 

Green Recipes:

recipes-green

 

Internet এসবজিদ্বারা তৈরী বিভিন্নখাবারের প্রস্তুতপ্রনালী দেখা যায়, যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রকৃত খাদ্যাভাস বজায় রাখার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।

 

Go Green members Program :

 

member-green
“Together we can make a difference” স্লোগানে “Go Green” এর সদস্যরা তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে থাকেন। মূলত, বিভিন্ন কোম্পানি, এন.জি.ও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোই এর মূল সদস্য। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত তাদের কর্পোরেট ব্যবহার, ধারণ ক্ষমতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাবিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরে “Go Green” এর কার্যক্রমের পাশাপাশি।

বর্তমান বিশ্বেও অনেক দেশ-ই এই পরিবেশবাদী চিন্তাধারার সাথে তাদের একাত্ববোধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশও এই ক্ষেত্রে আর পিছিয়ে নেই। Crown Cement Group এর একটি অঙ্গসংগঠন M.I. Cement Factory Ltd. ও এই সৎচিন্তাধারাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এর-ই ফলস্বরুপ বর্তমানে Crown Cement কার্যালয়ে “Go Green” এর পদচারণা উল্লেখযোগ্য।

>> যখনই কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী তার নিজ কক্ষ থেকে কোথাও যাবেন, অবশ্যই তার ল্যাপটপ/কম্পিউটার, এসি, লাইটইত্যাদি বন্ধ করা বাধ্যতামূলক। যদি কোন কর্মকর্তা নিজ কাজে অবহেলাস্বরুপ কম্পিউটার/এসি/লাইটবন্ধ না করে রুমের বাইরে থাকেন, তাকে লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়।
>> জরুরী তথ্যাদি কাগজে না লিখে কম্পিউটারএ সংরক্ষণ করার জন্য উদ্বুত করা।
>> কার্যালয়ের বিভিন্ন হিসাব বা বিল কম্পিউটারএ সংরক্ষণ করা এবং যথাসম্ভব কাগজের ব্যবহার কম করা ।
>> মিটিং এবং প্রয়োজনীয় কাজকর্মের সময়সুচীডায়রীতে না লিখে ফোনে সংরক্ষণ করা।
>> পরিবেশর ভারসাম্য রাখার জন্য Crown Cement কার্যালয়ের চত্বরে প্রায়শই গাছ লাগানো হয়ে থাকে।
>> বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় ভালো করে পানির কল বন্ধ করা।
>> একটি কাগজের এক পাশ ব্যবহার করে আরেকপাশ অহেতুক নষ্ট না করে, দুই পাশেই সমান ব্যবহার করা।
>> প্লাস্টিকএর ব্যাগ recycle করা সম্ভব নয় বলে, কার্যালয়ে সবাইকে উদ্বুধ করা হয় কাগজের তৈরী ব্যাগ ব্যবহারের জন্য।

বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং পরিবেশের নানাবিধ সমস্যার উদ্ভব Crown Cement Company কে ও “Go Green” এর উপকারিতা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাই কোম্পানি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আগামী প্রজন্মকে একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রদানে।